কোরবানির চামড়ায় ধস, নামমাত্র দামে বিক্রি করে হতাশ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৯ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

নিউজ বাংলা ডেস্ক :

কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম নিয়ে সারা দেশে চরম হতাশায় পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী ও সাধারণ বিক্রেতারা। প্রত্যাশিত দাম তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে খরচও উঠছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কোথাও ক্রেতা না থাকায় চামড়া রাস্তায় ফেলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্রেতারা, আবার কোথাও দুর্গন্ধ এড়াতে পুকুর, নদীর পাড়ে বা মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনাও ঘটছে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছে। ফলে ভালো মানের বড় গরুর চামড়ার দাম সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার বেশি বলা হচ্ছে না। সামান্য কাটা বা ছিদ্র থাকলে সেই দাম নেমে আসছে ১০০ থেকে ২০০ টাকায়। এই দামে চামড়া কিনে সংরক্ষণ ও পরিবহনের খরচ বহন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

রাজধানীর পোস্তাসহ বিভিন্ন আড়তে চামড়া নিয়ে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। সাতক্ষীরায় চামড়া বিক্রি না হওয়ায় সাধারণ মানুষ, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চরম সংকটে পড়েছে। লোকসান ও দুর্গন্ধের হাত থেকে বাঁচতে জেলার বিভিন্ন স্থানে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার খবরও মিলেছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবীর বলেন, চামড়া একটি জাতীয় সম্পদ। অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের অভাবে এভাবে চামড়া নষ্ট হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি চামড়া সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ এবং দ্রুত আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরেও একই চিত্র। বাড়ি বাড়ি ঘুরে চামড়া সংগ্রহ করা মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এখন ক্রেতার অপেক্ষায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসে সময় পার করছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শত শত কাঁচা চামড়ার স্তূপের পাশে বসে থাকতে দেখা গেছে তাদের।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কোরবানির পর থেকেই চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে। অনেক এলাকায় ক্রেতা না থাকায় চামড়া উপজেলা সদরে এনে ফেলে রেখে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন বিক্রেতারা। কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশা আরও বেড়েছে।

চট্টগ্রামেও চামড়ার বাজারে পুরনো সংকট ফিরে এসেছে। রাত বাড়ার সঙ্গে দাম বাড়ার আশায় থাকা ব্যবসায়ীদের সেই আশা শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায়। কেউ নামমাত্র দামে চামড়া বিক্রি করেছেন, কেউ বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে চলে গেছেন।

সব মিলিয়ে কোরবানির মৌসুমে চামড়ার ন্যায্য দাম না পাওয়া, সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এবং সংরক্ষণের ঘাটতির কারণে একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে জাতীয় সম্পদ হিসেবেও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে চামড়া শিল্প।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ