ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণায় তেলের দামে পতন, স্বস্তি পেলেও শঙ্কা কাটেনি


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৯ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে হঠাৎ বড় উত্থান দেখা দিয়েছিল তেলের দামে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার থেকে কমে প্রায় ১০৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগে পুরো সোমবারজুড়েই অনিশ্চয়তায় দুলছিল জ্বালানি বাজার।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ কঠোর করে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়েই পরিবহন হয়। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

সোমবার দিনের শুরুতে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। এ বক্তব্যের পরপরই তেলের দামে আরও ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।

তবে পরে পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন আসে। ইরানি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, আলোচনার স্বার্থে ইরানের অপরিশোধিত তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত মিলতে শুরু করে।

এরপর ট্রাম্প জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রেখেছেন। তাঁর ভাষায়, একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তির দিকেই আলোচনা এগোচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি দ্রুত ফিরিয়ে আনা না গেলে সামনে বিশ্ববাসীর জন্য এক ধরনের ‘ভোগান্তির গ্রীষ্ম’ অপেক্ষা করতে পারে। জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ