ইসলামে হাসির সীমা, কেমন হওয়া উচিত একজন মুমিনের হাসি
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
ইসলাম ডেস্ক :
হাসি-কান্না মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পৃথিবীতে মানুষের আগমন ঘটে কান্নার মাধ্যমে, কিন্তু তার আগমনে চারপাশে আনন্দের হাসি ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামের দৃষ্টিতে হাসি ও কান্না শুধু আবেগের প্রকাশ নয়, বরং মানুষের ঈমান, চরিত্র ও আত্মিক অবস্থারও প্রতিফলন।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, “আর নিশ্চয়ই তিনিই হাসান এবং তিনিই কাঁদান।” (সুরা নাজম, আয়াত : ৪৩)। অর্থাৎ মানুষের হাসি-কান্না সবই আল্লাহর ইচ্ছার অধীন। তাই একজন মুমিন আল্লাহর ভয়ভীতিতে অশ্রুসিক্ত হৃদয় এবং শান্তিময় জীবনের হাসি কামনা করবে।
ইসলামে অতিরিক্ত হাসি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কারণ অতিরিক্ত হাসি মানুষকে গাফেল ও উদাসীন করে তোলে। মহান আল্লাহ বলেন, “তারা যেন কম হাসে এবং বেশি কাঁদে।” (সুরা তাওবা, আয়াত : ৮২)। এখানে কান্না বলতে আল্লাহভীতি, পাপের অনুশোচনা ও আখিরাতের চিন্তায় বিনম্র হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
তবে ইসলাম স্বাভাবিক ও পরিমিত হাসিকে উৎসাহিত করেছে। নবী করিম (সা.) অধিকাংশ সময় মুচকি হাসতেন। সাহাবিরা বলেন, তিনি ছিলেন সদাহাস্যোজ্জ্বল ও কোমল আচরণের অধিকারী। ইসলামে অট্টহাসি বা উপহাসমূলক হাসি অপছন্দনীয়। কারণ তা মানুষকে অহংকার ও অন্যকে হেয় করার দিকে নিয়ে যায়।
আল-কোরআনে বিভিন্ন ধরনের হাসির উল্লেখ পাওয়া যায়। বিস্ময়ের হাসি, তাচ্ছিল্যের হাসি, মুনাফিকদের হাসি, সুসংবাদে আনন্দের হাসি এবং জান্নাত লাভের পর তৃপ্তির হাসি—সবই কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, হাসিরও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ ও প্রভাব।
পরকালে মুমিনদের জন্য থাকবে চিরস্থায়ী সুখ ও প্রশান্তি। কোরআনে এসেছে, “অনেক মুখমণ্ডল সেদিন উজ্জ্বল, সহাস্য ও প্রফুল্ল হবে।” (সুরা আবাসা, আয়াত : ৩৮-৩৯)। দুনিয়ার কষ্ট, ধৈর্য ও আনুগত্যের প্রতিদান হিসেবে জান্নাতে মুমিনদের মুখ হবে হাস্যোজ্জ্বল।
ইসলাম মানুষকে হাসতে নিষেধ করেনি; বরং শালীনতা, সংযম ও সুন্নতের সীমার মধ্যে থেকে হাসতে শিক্ষা দিয়েছে। তাই একজন মুমিনের হাসি হবে বিনয়ী, হৃদয়গ্রাহী এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করার মতো।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুন্নতের আলোকে জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।
আপনার মতামত লিখুন :