একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে জামায়াতের নাম বহাল রেখে বিল পাস
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
অনলাইন ডেস্ক :
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
সংশোধিত এই বিলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী এবং নেজামে ইসলাম পার্টি-এর নাম বহাল রাখা হয়েছে।
তবে বিলটির বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। তিনি ও তার দলের সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোকে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত রাখা যৌক্তিক নয়।
অন্যদিকে, তাদের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই বিলের ওপর কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে লিখিতভাবে জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে সংসদের বিশেষ কমিটি। সেই প্রেক্ষিতে জামুকা অধ্যাদেশও পাস করা হয়।
বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে জামায়াতের এমপিরা বলেন, ২০০২ সালে খালেদা জিয়া সরকারের সময় প্রণীত আইনে এসব দলকে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী বলা হয়নি। তাই বর্তমান অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত অবস্থায় পাস হলে তা রাজনৈতিকভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করবে।
এছাড়া, কোনো রাজনৈতিক দলকে সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করাকে ‘ফ্যাসিবাদী রাজনীতির সমর্থন’ বলে মন্তব্য করেন তারা। একই সঙ্গে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ ও মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞায় পরিবর্তনের দাবিও জানান জামায়াতের সংসদ সদস্যরা।
আপনার মতামত লিখুন :