জুমার দিনের বিশেষ আমল, সুরা কাহাফ তিলাওয়াতের ফজিলত ও গুরুত্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
অনলাইন ডেস্ক :
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য এক বিশেষ বরকতময় দিন—সপ্তাহের সেরা দিন। এই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের সুবর্ণ সুযোগে ভরপুর। এই বরকতময় দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা। পবিত্র কোরআনের ১৫তম পারার ১৮তম সুরা এটি।
যদি কেউ সম্পূর্ণ সুরাটি তেলাওয়াত করতে না পারেন, তবে তিনি যেন এ সুরার প্রথম এবং শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করেন। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্তি পাবে (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮০৯)।
সুরা কাহাফ আমাদের জীবনের নানা ফিতনা থেকে বাঁচার পথ দেখায় এবং অন্তরে প্রশান্তি এনে দেয়। মহানবী (সা.) এই দিনে সুরা কাহাফ পাঠের বিশেষ ফজিলতের কথা জানিয়েছেন।
ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে, তার জন্য তার পায়ের নিচ থেকে আসমানের মেঘমালা পর্যন্ত একটি আলো বিচ্ছুরিত হবে এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ১/২৯৮)
এই ফজিলত লাভের জন্য জুমার দিনই সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করতে হবে। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। জুমার রাত বা দিনের যেকোনো সময় এটি পড়া যায়।
জুমার রাত শুরু হয় বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে এবং শেষ হয় শুক্রবার সূর্যাস্তের মাধ্যমে। অর্থাৎ, সুরা কাহাফ তিলাওয়াতের সময় হচ্ছে—বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত (ফাইজুল কাদির: ৬/১৯৯)।
ব্যস্ত জীবনের মাঝেও সামান্য সময় বের করে আমরা যেন এই ফজিলতপূর্ণ আমলটি আদায় করি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে জুমার দিনের বরকতপূর্ণ ইবাদতগুলো নিয়মিতভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
আপনার মতামত লিখুন :