চার্জে চলবে বিশ্বকাপের বল, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ফুটবল


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১১ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

খেলাধুলা ডেস্ক :

এক সময় দোকানে গিয়ে চামড়ার বলে হাওয়া ভরানোর স্মৃতি অনেকেরই আছে। সময় বদলেছে, বদলেছে ফুটবলের প্রযুক্তিও। এখন আর শুধু হাওয়ায় ভর করে মাঠে গড়াবে না বল। চাইলে চার্জ দিয়েই ফুটবল খেলা সম্ভব। আর সেই বাস্তবতাই দেখা যাবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে।

আগামী বিশ্বকাপে ব্যবহৃত বলের নাম ‘ট্রাইওন্ডা’। স্প্যানিশ শব্দটির অর্থ ‘তিন ঢেউ’। নামের মধ্যেই ধারণ করা হয়েছে বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাকে। বলের নকশায়ও ফুটে উঠেছে এই তিন দেশের পরিচয়। যুক্তরাষ্ট্রের নীল, কানাডার লাল ও মেক্সিকোর সবুজ রঙে সাজানো হয়েছে বলটি।

বলের গায়ে রয়েছে কানাডার ম্যাপলপাতা, মেক্সিকোর ঈগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারকা প্রতীক। পুরো নকশায় ব্যবহৃত সোনালি রঙ মনে করিয়ে দেয় প্রতিটি দলের পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফিকে।

দেখতে সাধারণ ফুটবল মনে হলেও বলটির ভেতরে লুকিয়ে আছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস বলটির ভেতরে বসিয়েছে ১৪ গ্রামের একটি বিশেষ মোশন সেন্সর চিপ। বলের কেন্দ্রে স্থাপিত ৫০০ হার্টজ সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ফলে খেলোয়াড়ের সামান্য ছোঁয়াও রিয়েল টাইমে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অফসাইড, হ্যান্ডবলসহ বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো আরও নিখুঁতভাবে নেওয়া যাবে। একবার পুরো চার্জ দিলে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত খেলা যাবে, যা একটি ম্যাচের জন্য যথেষ্ট।

অ্যাডিডাসের মহাব্যবস্থাপক স্যাম হ্যান্ডি জানান, প্রতিটি ছোট উপাদানই বড় প্রভাব ফেলে। খোদাই করা নকশা, স্তরযুক্ত গ্রাফিকস ও উজ্জ্বল রঙ এই বলকে আলাদা করেছে। তাঁর মতে, এখন পর্যন্ত এটিই অ্যাডিডাসের তৈরি সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় বিশ্বকাপ বল।

এই ‘ট্রাইওন্ডা’ বলেই জাদুকরী মুহূর্ত তৈরি করবেন লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও **কিলিয়ান এমবাপ্পে**দের মতো তারকারা।

উল্লেখ্য, মোট ১৫ বার ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল তৈরি করেছে অ্যাডিডাস। **ফিফা বিশ্বকাপ**ে তাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপের ‘টেলস্টার’ বল দিয়ে। তারপর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই নতুনত্ব ও প্রযুক্তির ছোঁয়া যোগ করে আসছে জার্মান প্রতিষ্ঠানটি।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ