বিশ্বকাপে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ২০২৬ আসর
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
খেলাধুলা ডেস্ক :
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর আয়োজন। এবার প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। ৪৮ দল ও ১০৪ ম্যাচের এই আসরকে ঘিরে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেন্সর প্রযুক্তি ও রোবটিক সিস্টেমের বিস্তৃত ব্যবহার।
এবারের বিশ্বকাপে প্রযুক্তির প্রভাব থাকবে খেলার মাঠ থেকে শুরু করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি ধাপে। রেফারিং, খেলোয়াড় বিশ্লেষণ এবং ম্যাচ পর্যবেক্ষণ সবকিছুই হবে আরও দ্রুত ও নির্ভুল।
নতুন প্রযুক্তির মধ্যে অন্যতম হলো অ্যাডিডাসের সেন্সরযুক্ত ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’। এতে থাকা আইএমইউ সেন্সর বলের গতি ও অবস্থান প্রতি সেকেন্ডে শত শতবার পর্যবেক্ষণ করে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিস্টেমে তথ্য পাঠাবে। ফলে অফসাইডসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আরও দ্রুত নেওয়া সম্ভব হবে।
ফিফা ও লেনোভোর সহযোগিতায় এবার চালু হচ্ছে এআই-চালিত থ্রি-ডি প্লেয়ার মডেল, যা খেলোয়াড়দের শরীরের ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি করে বিশ্লেষণে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে রেফারিদের জন্য বডি ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে, যাতে দর্শকরা মাঠের ভেতরের দৃষ্টিভঙ্গি দেখতে পারেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে রোবটিক কুকুর, যা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি করবে এবং সরাসরি ভিডিও পাঠাবে। পাশাপাশি অফসাইড সিদ্ধান্তের জন্য আরও উন্নত সেমি-অটোমেটেড প্রযুক্তি চালু হচ্ছে, যা আগের তুলনায় অনেক কম দূরত্বের অফসাইডও শনাক্ত করতে পারবে।
এছাড়া খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিটি ম্যাচে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক রাখা হবে, যাতে শারীরিক সক্ষমতা বজায় থাকে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর ফুটবলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী এক নতুন অধ্যায় হতে যাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :