কোরবানির বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার করা হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিউজ বাংলা ডেস্ক :
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশ উপহার দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টার মধ্যেই কোরবানির সব বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।
সোমবার (২৫ মে) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি ঈদের প্রধান জামাত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরে। পরে ডিএসসিসি প্রশাসক সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করে ঈদযাত্রার পরিস্থিতিও সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এবার জাতীয় ঈদগাহে ১২১টি কাতারে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। নারীদের জন্য থাকছে আলাদা প্রবেশপথ, অজুখানা ও নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা। গরমের বিষয়টি বিবেচনায় পুরো প্যান্ডেলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত ফ্যান বসানো হয়েছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে কলাবাগান এসটিএস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে বর্জ্য পরিবহন শুরু হবে। প্রথম দিনের কোরবানির বর্জ্য রাত ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যেই পুরোপুরি অপসারণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসির হিসাব অনুযায়ী, ঈদের তিন দিনে দক্ষিণ সিটি এলাকায় প্রায় ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য উৎপন্ন হতে পারে। এই বিপুল বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করতে মাঠে থাকবেন ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। ব্যবহৃত হবে ট্রাক, কম্প্যাক্টর ও পে-লোডারসহ মোট ২ হাজার ১১৭টি যান ও যন্ত্রপাতি।
জীবাণু দমন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে বিতরণ করা হচ্ছে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ।
কোরবানির হাট পরিচালনা ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারকিতে ডিএসসিসি কার্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। প্রতিটি হাটে থাকবে আলাদা তদারকি টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মেডিকেল টিম।
ডিএসসিসি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি দিয়ে পশুর বর্জ্য ব্যাগে ভরে নির্ধারিত জায়গায় রাখুন, কোরবানির স্থান পানি দিয়ে ধুয়ে ব্লিচিং পাউডার ও স্যাভলন ব্যবহার করুন এবং কোনো অবস্থাতেই ড্রেন বা নর্দমায় বর্জ্য ফেলবেন না।
নগরবাসীর সহযোগিতায় একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও সুন্দর ঈদ উদযাপনের প্রত্যাশা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
আপনার মতামত লিখুন :