সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী বানাতে শুধু শাসন নয়, ভরসা রাখুন এসব কৌশলে


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

লাইফ স্টাইল :

প্রতিটি মা-বাবারই লক্ষ্য থাকে সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী ও সুশৃঙ্খল করে গড়ে তোলা। কিন্তু এই কাজটি বেশ কঠিনও বটে। শিশুর আত্মবিশ্বাস ও আচরণ মূলত তার জিন, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, অভিভাবকত্বের ধরণ এবং শৈশবের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে।

তবে কিছু কৌশল ঠিকমতো কাজে লাগালে শিশুরা আত্মবিশ্বাসী ও শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠে। শুধু শাসন না করেও কিভাবে সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলতে চান, তা জানাতেই আজকের প্রতিবেদন। চলুন, জেনে নেওয়া যাক- স্বাধীনতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ শিশুকে বয়সোপযোগী ছোটখাটো সিদ্ধান্ত নিজের মতো করে নিতে দিন। এতে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জন্মায়। যেমন, দুটি পোশাকের মধ্যে কোনটি পরবে বা কোন খেলাধুলায় অংশ নিতে চায়, সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে দিন।

‘আমেরিকান সাইকোলজিস্ট’ জার্নালে ২০০০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, শিশুর এই স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিলে তার মানসিক চাহিদা পূরণ হয়, যা তাকে ভেতর থেকে নতুন কাজ করতে উৎসাহিত করে এবং সুস্থ মানসিক বিকাশে সাহায্য করে।

সুস্পষ্ট সীমারেখা তৈরি কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না, সেই সীমা সম্পর্কে অবগত থাকলে শিশুর বিকাশ ভালো হয়। এটি শিশুকে দায়িত্বজ্ঞান শেখায়। আবার স্বাধীনতার স্বাদও দেয়।

‘ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজি’ জার্নালে ১৯৯১ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে সব মা-বাবা স্নেহের সঙ্গে সুস্পষ্ট নিয়মকানুন প্রয়োগ করেন, তাদের সন্তানরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও সামাজিক হয়।

সাফল্যের চেয়েও প্রচেষ্টার প্রশংসা :

মাইন্ডসেট : 
দ্য নিউ সাইকোলজি অব সাকসেস’ শীর্ষক ২০০৬ সালের একটি গবেষণাপত্রে জন্মগত প্রতিভার পরিবর্তে শিশুর প্রচেষ্টার প্রশংসা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রচেষ্টার প্রশংসা করলে শিশুর মধ্যে ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ তৈরি হয়, যার ফলে সে কঠিন পরিস্থিতিকে বিপদ না ভেবে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখে। তাই ‘তুমি খুব বুদ্ধিমান’- এর পরিবর্তে বলুন, ‘তুমি যে পরিশ্রম করেছ, তাতে আমি গর্বিত’।

শিশুরা বড়দের দেখেই শেখে :

যে অভিভাবকরা শান্তভাবে মানসিক চাপ সামলান, শ্রদ্ধার সঙ্গে কথা বলেন এবং নিজেদের প্রতি আস্থা রাখেন, তাদের সন্তানরাও সাধারণত সেই পথই অনুসরণ করে। ‘সাইকোলজিক্যাল রিভিউ’ জার্নালে প্রকাশিত ১৯৭৭ সালের একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে, শিশুরা তাদের অভিভাবকদের আচরণ, মনোভাব ও বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার অনুকরণ করে।

সমস্যা সমাধান ও ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরিতে উৎসাহ প্রতিটি সমস্যা থেকে শিশুকে উদ্ধার না করে, তাকে নিজেই ছোটোখাটো চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে দিন। সরাসরি উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে প্রশ্ন করুন, আলোচনা করুন এবং সমাধানের পথ খুঁজছে সাহায্য করুন।

‘আমেরিকান সাইকোলজিস্ট’ জার্নালে ২০০১ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, ছোট ছোট ব্যর্থতার সম্মুখীন হওয়া এবং তা কাটিয়ে ওঠা শিশুদের মধ্যে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলার দক্ষতা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে

সূত্র : আজকাল


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ