ইরানের আস্থা ফেরাতে ট্রাম্পকে জব্দ ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে হবে : রেজাই
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পারমাণবিক আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর জন্য একটি ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই।
শুক্রবার (৫ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা এখন পুরোপুরি অচলাবস্থায় রয়েছে। তার মতে, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রেরই। তিনি বলেন, “এখন বল আমেরিকার কোর্টে।”
রেজাই জানান, আলোচনার অগ্রগতি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র কত দ্রুত জব্দ করা ২৪ বিলিয়ন ডলার ইরানি সম্পদ ছাড় দেবে, তার ওপর। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, চুক্তি হলে প্রথম ধাপে ১২ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তী সময়ে বাকি অর্থ ছাড় দেওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এটা আমেরিকার কোনো অর্থ নয়। এটি ইরানের নিজস্ব সম্পদ। এই পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তীর্ণ হতেই হবে।” একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে জানান, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ইরান পারস্য উপসাগরের বাইরেও সংঘাত বিস্তৃত করতে পারে, যদিও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সম্ভাবনা তিনি তুলনামূলকভাবে কম বলে উল্লেখ করেন।
সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ প্রসঙ্গে রেজাই দাবি করেন, স্থলযুদ্ধে ইরানের সক্ষমতা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির চেয়েও বেশি। সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে ইরানের অবস্থানকে তিনি বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ইরান সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী নয় এবং আলোচনার অচলাবস্থার দায়ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপান। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ট্রাম্পের অস্পষ্ট ও অনিশ্চিত কৌশল নতুন কোনো চুক্তিকে কঠিন করে তুলেছে।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে রেজাই বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে আদায়কৃত অর্থকে তিনি প্রণালির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–এর উপদেষ্টা হিসেবে রেজাই বলেন, ইরানের আস্থা ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :