স্থানীয় নির্বাচনে সেনা না রাখার পরিকল্পনা ইসির, ভোট ডিসেম্বরে হতে পারে


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

অনলাইন ডেস্ক :

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন না রাখার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটি আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসকে লক্ষ্য রেখে ধাপে ধাপে নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৫০টি উপজেলা পরিষদ, তিন শতাধিক পৌরসভা, প্রায় ৬০০টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৬১টি জেলা পরিষদ নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে। এর বাইরে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে আরও প্রায় ২,৮০০টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হবে।

এদিকে ইতিমধ্যে ১২টি সিটিসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বগুড়া সিটি করপোরেশন নতুনভাবে গঠিত হওয়ায় এর সীমানা ও সংশ্লিষ্ট আইনগত জটিলতা আছে কি না, তা তফসিল ঘোষণার আগেই নিষ্পত্তি করতে চায় ইসি।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌরসভা, উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা নিয়ে কোনো মামলা বা জটিলতা থাকলে সংশ্লিষ্ট তথ্য দ্রুত কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ গেজেট আকারে এখনো নির্বাচন কমিশনের হাতে আসেনি। গেজেট পাওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী বিধিমালা সংশোধন করা হবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের নেতৃত্বে গঠিত আইন সংস্কার কমিটি কাজ করছে। কমিটি ইতিমধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছে। আলোচনায় প্রার্থীদের ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর প্রথা বাদ দেওয়া, ইভিএম ব্যবহার বাতিল, পোস্টার নিষিদ্ধ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার নিয়মিত করা, জামানত বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপপ্রচার রোধের মতো বিষয়গুলো রয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ষা মৌসুম, বাজেট প্রস্তুতি এবং বিধিমালা সংশোধনের কারণে নির্বাচনের আয়োজন কিছুটা সময় নিতে পারে। ফলে শীত মৌসুমে অর্থাৎ নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের পরিকল্পনা হলো আগামী এক বছরের মধ্যে পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা। বাজেটের ওপর ভিত্তি করে প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে পারে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে এবং প্রয়োজনে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে স্থানীয় নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনই এমন কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি দেখে নেওয়া হবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ