হরমুজ সংকটে তেল রপ্তানিতে ধাক্কা, বিকল্প পথে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ইরাক
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে গত এপ্রিল মাসে ইরাক মাত্র এক কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে দেশটির মাসিক তেল রপ্তানি ছিল প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি এখন অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত জটিলতার কারণে অনেক তেলবাহী জাহাজ ওই পথ ব্যবহার করতে চাইছে না।
হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার প্রভাব শুধু ইরাকেই নয়, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানিতেও পড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
তবে বিকল্প পথ হিসেবে কিরকুক-জেইহান পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাগদাদ ও কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে সমঝোতার পর গত মার্চ মাসে পাইপলাইনটি পুনরায় চালু হয়।
বর্তমানে ইরাক দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, তুরস্কের জেইহান বন্দর দিয়ে বর্তমানে দৈনিক দুই লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পাঁচ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, তেল ও গ্যাস খাতে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে তুরস্কের সঙ্গে বিস্তৃত সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন, এক্সনমোবিল ও হ্যালিবার্টনের সঙ্গে বিভিন্ন বিনিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছে ইরাক।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক ওপেকের সঙ্গে উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরাকি কর্মকর্তাদের মতে, রপ্তানি সীমা শিথিল হলে দেশটি বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পাবে।
ইরাক ভবিষ্যতে দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে ওপেক বা ওপেক প্লাস জোট ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছে দেশটির সরকার।
আপনার মতামত লিখুন :