বিশ্বকাপ শুরুর এক মাস আগে চীন-ভারতে সম্প্রচার সংকটে ফিফা


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৩ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

খেলাধুলা ডেস্ক :

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র এক মাস বাকি। অথচ এখনো বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ চীন ও ভারত–এ টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব চূড়ান্ত করতে পারেনি ফিফা। ফলে দেশ দুটির কোটি কোটি দর্শক বিশ্বকাপের সব ১০৪টি ম্যাচ দেখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বিষয়টি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো–র জন্যও বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ভারত ও চীনের মতো বিশাল বাজারকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা। কিন্তু মাঠের খেলা শুরুর আগেই সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে জটিল দর-কষাকষি।

ভারতে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য প্রথমে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হলেও পরে তা কমিয়ে ৩৫ মিলিয়ন ডলারে নামানো হয়। তবুও এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি। দেশটির রিলায়েন্স ও ডিজনির যৌথ প্রতিষ্ঠান জিওস্টার মাত্র ২০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে, যা ফিফার প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।

এর আগে ২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে সনি প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিল। আর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের জন্য ভায়াকম১৮ দেয় প্রায় ৬২ মিলিয়ন ডলার। তবে এবারের পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন।

২০২৬ বিশ্বকাপের সময়সূচিও ভারতের দর্শকদের জন্য তেমন সুবিধাজনক নয়। উপমহাদেশে মধ্যরাতের আগে শুরু হবে মাত্র ১৪টি ম্যাচ। অথচ ২০১৮ বিশ্বকাপে প্রায় সব ম্যাচই মধ্যরাতের আগে শুরু হয়েছিল এবং ২০২২ আসরেও বেশিরভাগ ম্যাচ দর্শকবান্ধব সময়ে অনুষ্ঠিত হয়।

এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাজি প্রভাকরণ মনে করেন, মূল সমস্যা সময়সূচি নয়; বরং ভারতের সম্প্রচার বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাওয়া। রিলায়েন্স ও ডিজনির একীভূত হওয়ার পর কার্যত জিওস্টার ও সনি ছাড়া বড় কোনো সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান নেই।

তিনি বলেন, ভারতে ক্রীড়াবাজারের মূল আকর্ষণ ক্রিকেট। ফলে এমন একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে বড় অঙ্কের বিনিয়োগে সম্প্রচারকারীরা খুব বেশি আগ্রহী নন, যেখানে ভারত অংশ নিচ্ছে না এবং অধিকাংশ ম্যাচ গভীর রাতে অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ–এর দর্শক সংখ্যাও কমেছে। ফলে সম্প্রচারকারীরা এখন আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রচার স্বত্ব কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে চীনের বাজার ফিফার জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০২২ বিশ্বকাপে বৈশ্বিক টেলিভিশন দর্শকের প্রায় ১৭ দশমিক ৭ শতাংশই ছিল চীন থেকে। ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হার ছিল প্রায় ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি সাধারণত বিশ্বকাপ সম্প্রচার করে থাকে। তবে তাদের বাজেট ৬০ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা ফিফার চাহিদার তুলনায় অনেক কম। সময়ের পার্থক্য এবং চীনের জাতীয় দলের দুর্বল পারফরম্যান্সও দর্শকদের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে।

চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সিসিটিভির অবস্থানকে সমর্থন করছেন। কারণ দেশটির অনেক দর্শক বিকল্প অনলাইন মাধ্যমে ম্যাচ দেখে থাকেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ফিফার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বেইজিং সফরে যাওয়ায় শিগগিরই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও চীনের মতো বড় বাজার যদি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করে বড় ধরনের ছাড় আদায় করতে সক্ষম হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলিও একই কৌশল অনুসরণ করতে পারে। এতে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্বের বৈশ্বিক বাজারমূল্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ